বেহাল সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই

সংস্কারের অভাবে চলাচলে চরম দুর্ভোগ, দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার জমে থাকে পানি। ভাঙাচোরা ও কাদায় পূর্ণ সড়ক পেরিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর বলাইদপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্ষা এলেই সড়কটির দুরবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। কাদায় পিছলে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের। প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। হাট-বাজার, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কর্মস্থলে যাতায়াতেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, জরুরি প্রয়োজনে এই সড়ক দিয়ে রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরাও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়েন। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও পাকাকরণের আওতায় এলেও পিরোজপুর বলাইদপাড়া এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখনও অবহেলিত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সড়কটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; স্থানীয় মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কটি উন্নত হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ব্যাপক উন্নতি হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।