মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মাণে বাঁধা সাধারণ সম্পাদকে হুমকি মধুপুরে অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাংগাইলের ১২টি উপজেলার ৮১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আগামীতে স্বাস্থ্য কার্ডের কথাও ভাবছে সরকার-তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনগণ ভালো থাকলে সরকার ভালো থাকবে মধুপুরে-আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মধুপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের বাড়ি নির্মাণে বাধা,১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি:মালামাল লুট ঘাটাইলে চাপড়ীতে যাতায়াতের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা, ৯০টি পরিবার অবরুদ্ধ মধুপুরে ঐতিহ্যবাহী শালবন রক্ষায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত টাংগাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন সরাসরি

টাংগাইলের পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ছে হলুদের আবাদ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর ও সখীপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে মশলা জাতীয় ফসল হলুদের আবাদ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এখন সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলুদ চাষে খুব বেশি পরিচর্যা করতে হয় না। গরু, ছাগল কিংবা পোকা-মাকড়ের উপদ্রব নেই বললেই চলে। এমনকি পরিত্যক্ত জমিতেও হলুদ ভালো জন্মে। বাজারে এর চাহিদা বেশি এবং দামও অন্য ফসলের তুলনায় ভালো। ফলে কৃষকরা অন্য ফসলের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবেও হলুদের চাষ করছেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ১২টি উপজেলায় তিন হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ঘাটাইলে ১,৪৫৬ হেক্টর, মধুপুরে ৯৮০ হেক্টর এবং সখীপুরে ৩৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে, যা জেলার সর্বাধিক। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এ অঞ্চলগুলোর দো’আঁশ ও বেলে দো’আঁশ লালমাটি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

মধুপুর উপজেলায় এ বছর ৯৮০ হেক্টর জমিতে হলুদ রোপণ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর এ উপজেলায় ৭৬০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের ধারণা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার প্রায় ৫৮ কোটি টাকার হলুদ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের চাষি ছানোয়ার হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক বাজারদর পেলে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ সম্ভব। আরেক কৃষক বাপ্পি বলেন, “হলুদ চাষে খুব একটা ঝামেলা নেই। সার ও কীটনাশকও কম লাগে। ফলে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি।”

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় জাত ছাড়াও উচ্চফলনশীল ডিমলা ও সিন্দুরী জাতের হলুদ বেশি ফলন দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া বারি উদ্ভাবিত বারি হলুদ-৩, বারি হলুদ-৪ ও বারি হলুদ-৫ জাতের চাষেও কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন বলেন, এবার জেলায় হলুদের বাম্পার ফলনের আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকরা উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে পারবেন।

কৃষিবিদদের মতে, ‘মিরাকল হার্ব’ খ্যাত হলুদ শুধু রান্নায় নয়, ঔষধি গুণাগুণের জন্যও বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এতে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল এবং কারকিউমিন নামক রাসায়নিক থাকে, যা নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে কৃষি অর্থনীতির পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষায়ও হলুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102