টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৭ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে। তারই প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে সামান্য শারীরিক শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের সংগ্রাম শিমুল গ্রামে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে । অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত আসাদুল ইসলাম (৩৮)নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি ওই গ্রামের দুদু শেখর ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুর পিতা পেশায় একজন ভ্যানচালক। শিশুটি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাতিজার মেয়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ৫/৭ দিন ধরে এলাকায় আসাদুলের বিরুদ্ধে শিশুটিকে যৌন নিপিড়নের ঘটনা নিয়ে নানা প্রচার প্রপাকান্ড চলছিল এবং এলাকায় চাউর হয় মধ্যপ্রাচ্য ফেরত আসাদুল তার(নাতনী) ভাতিজার শিশু সন্তানকে শারীরিকভাবে হয়রানী করেছেন। শিশুটির সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন এমন তথ্যে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন আলোচনা ও উত্তেজনা চলছিল, যার পরিণতিতে এই শালিস অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার এক পর্যায়ে অভিযোগের বিষয়ে মধুপুর থানায় মামলা করার চেষ্টা হয়। অজ্ঞাত কারণে তা শেষ পর্যন্ত দায়ের হয়নি। পরে গত ৩ মে(রোববার)বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে শালিসের মাতাব্বর ওই গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার হোসেন আলীকে বিষয়টি জানতে একাধিকবার ফোন করলে প্রথমে একবার ফোন রিসিভ করে বলে আমি এখন জাকির ভাই(উপজেলা বিএনপির সভাপতি)সাথে একটি মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলব। এর পর তাকে পুনরায় ফোন করলেও তিনি তা আর রিসিভ করেননি। ওই এলাকার টিয়া মতিসহ বেশ কয়েকজনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অভিযুক্তকে শারীরিকভাবে শাস্তি (চড়-থাপ্পড়) দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর তারপর থেকেই ওই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আরো বেশি চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, “একটি শিশু ইভটিজিংয়ের অভিযোগ থানায় আসার কথা শুনেছি, তবে পরে আর কেউ অভিযোগ দেয়নি। এ ধরনের ঘটনা শালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করার মতো নয়। আমরা থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”