মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মধুপুরে পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের ৪জন নিহত কেন্দ্রীয় যুবদলের মুন্না-নয়ন পরিষদকে অভিনন্দন জানিয়ে মধুপুরে আনন্দ মিছিল টুংটাং শব্দে মুখর মধুপুরের কামার পল্লী, মজুরী বেশি নেয়ার অভিযোগ গ্রাহকের মধুপুরে গরমে বেরেছে তালের শাঁসের কদর মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মাণে বাঁধা সাধারণ সম্পাদকে হুমকি মধুপুরে অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাংগাইলের ১২টি উপজেলার ৮১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আগামীতে স্বাস্থ্য কার্ডের কথাও ভাবছে সরকার-তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনগণ ভালো থাকলে সরকার ভালো থাকবে মধুপুরে-আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মধুপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইলে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বনের জমিতে স্থাপনা নির্মানের মহোৎসব

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪১০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল বন বিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে ফরেষ্টের জায়গায় চলছে অবৈধভাবে ঘর-বাড়ি দালান নির্মানের মহোৎসব। স্থানিয়রা বলছেন, বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে তোলা হচ্ছে এ সব স্থাপনা।

সরেজমিনে ঘাটাইলের ঝড়কা বিটের ৩০০ গজ পশ্চিম-দক্ষিনে আ: আজিজ ওরফে কাশু নামের জনৈক ব্যাক্তি দালান নির্মান করছেন। স্থানিয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি কেউ-ই।

কারণ হিসাবে জানা যায়, কোন কথা বলতে গেলেই বনকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাবে। আর এর জন্য খেসারত বন বিভাগের মিথ্যা মামলায় হয়রানি। এমনকি বিনা কারণে হাজতবাস। কারণ বনের মামলায় বন সংশ্লিষ্টদের ছাড়া আর কারো সাক্ষীর দরকার পড়েনা।

আর বনকর্মকর্তাদের এ মিথ্য মামলায় জড়িয়ে কামালপুর এলাকার নীরিহ এক নারী চা বিক্রেতাকে হাজত খাটতে হয়েছে।

এভাবে ঘাটাইলের ৬টি বিটে শত শত মানুষ বনের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝড়কা এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা ওয়াদুদুর রহমান ৭/৮ বৎসর আগে এই ঝড়কা বিটের বিট অফিসার ছিলেন। ওই সময় তাকে ম্যানেজ করে এখানে শতশত লোক ঘর উঠিয়ে বসবাস করছে।

ফরেষ্টের জায়গায় কিভাবে ঘর উঠাচ্ছেন জানতে চাইলে আ: আজিজ ওরফে কাশু বলেন, এ জমিটি অনেক আগে থেকেই আমার দখলে রয়েছে। আমি এখন ঘর উঠাচ্ছি।

এ কথা বলেই তিনি দ্রুত চলে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

আবার ওয়াদুদুর রহমান এসেছেন রেঞ্জারের দায়িত্ব নিয়ে। এখন ৬টি বিট তার হাতের মুঠোয়। এ যেন ‘ভালুকের হাতে খোন্তা’।

ঝড়কা বিটের বনের জমিতে কাশু নামের এক ব্যাক্তি বিল্ডিং তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জার ওয়াদুদুর রহমান বলেন,  শুনেছি বিষয়টি, আমি ঝড়কা বিট অফিসারকে বলে দিয়েছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঝড়কা বিট অফিসার হেলাল উদ্দিন কোন পদক্ষেপ নেননি।

এদিকে গেল দুই মাস আগে বটতলি বিটের আমতলি নামক স্থানে রাস্তার মোড়ে ছামাদ নামে এক ব্যাক্তি বনের জায়গায় ঘর উত্তোলন করেন।অথচ ওই জায়গায় সুর্য্য মিয়া নামে এক ব্যাক্তি ঘর উঠালে তা ভেঙ্গে দেন বিট কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন।

অভিযোগ রয়েছে, তার একদিন পরেই বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ছামাদ নামে এক ব্যাক্তি রাতের আধারে ঘর উত্তোলন করে দখল করেন।

এভাবেই চলছে ঘাটাইলে বন দখলের মহোৎসব।

এ ব্যাপারে বটতলি বিট কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার তার অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার বেলা ২টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে(০১৭১৬৪৩৭….) কল করলে রিং বাজলেও তিনি ধরেননি।

স্থানিয়রা বলছেন, পাহাড় ও বন খেকো ফরেষ্টার ওয়াদুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত এলাকাবাসির অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি-দমন কমিশন কিংবা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করলে কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, বন বিভাগের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে এটাতো নিরন্তন প্রক্রিয়া। আপনারা আপনাদের জমি ধ্বংস করবেন সরকারি জমি। আমরা কি করছি আমরাতো নিয়মিত মামলা দিচ্ছি। আবার বিভিন্ন তয়তদবির আসছে এর নামে মামলা দিবেন না।আমি যতটুকু জানি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা মামলা দিচ্ছি। মামলার বিরুদ্ধে তদবির হচ্ছে বিভিন্ন সাংবাদিক মহল বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরতেছে।

ঝড়কা বিটের ৩০০ গজের মধ্যে বনের জায়গায় বিল্ডিং তোলা হচ্ছে বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে দেখি এটা কার জায়গা, বনের জায়গা কিনা।

টাঙ্গাইল বনবিভাগের জরিপ অনুযায়ী, ঘাটাইল উপজেলায় বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭৮৫ একর। এর মধ্যে দখল হয়ে গেছে প্রায় এক হাজার ৯শ একর বনভূমি।

যেখানে দখলদারের সংখ্যা ৫ হাজার ৪২১ জন।

অথচ, ১৯২৭ সালের সংশোধিত বন আইন এবং ২০১২ সালের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে সংরক্ষিত বনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা পরিচালনা না করার নির্দেশ রয়েছে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102