টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাপ্রবি) ছাত্র এএসকে মোশাররফ হত্যার ১১ বছরেও বিচার পায়নি পরিবার। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হলেও বিচার হয়নি। দীর্ঘদিনেও ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে হাতাশায় ভুগছেন বাবা-মা, পরিবার। সরকার পতনের পর তড়িঘড়ি করে মামলার রায় প্রকাশ। আদরের ছেলে হত্যাকারীদের কোনো শাস্তি না হওয়ায় আক্ষেপ করছেন বৃদ্ধ বাবা। মোশাররফ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মুজাটি গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। গত ২০১৫ সালের ১৩ই মে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ও অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মোশাররফকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিপথগামী ছাত্র মিলে প্রকাশ্য দিবালোকে ক্যাম্পাসেই কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।
বিষয়টি সে সময় সারা দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতের বাবা সহিদুল ইসলাম সহিদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ২০১৫ সালের ১লা ডিসেম্বর ২৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। তখন ২৬ আসামির মধ্যে পুলিশ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি দুইজন পলাতক থাকে। এরপর আদালতে মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিনে আদালতে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালের ২৯শে অক্টোবর তারিখে মামলার বাদী নিহত ছাত্রের বাবা শহিদুল ইসলাম বা তার পরিবারকে কোনো ধরনের অবহিত না করেই তড়িঘড়ি করে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতে মামলার রায় ঘোষণা হয়। রায়ে মামলার সকল আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।
আদালতে বাদীপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় বলে উল্লেখ করা হয়। শহিদুল ইসলামের দাবি মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে আসামি পক্ষ হয়তো কোনো ধরনের আঁতাত করে মামলার গতিবিধি ঘুরিয়ে দিয়ে থাকতে পারে। নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে মোশাররফের মা চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যাশা ছিল তারা অন্তত ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে পারবেন। কিন্তু রায়ে তা প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, একপর্যায়ে এসে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মামলাটি নিয়ে হয়তো সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। অথবা গোপনীয় কোনো ধরনের আঁতাত করে থাকতে পারেন।
যার জন্য আসামিরা খালাস পেয়ে গেছে। তিনিও ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পাননি। রায় যেদিন প্রকাশিত হয় তিনি তা জানতেও পারেননি বলে অভিযোগ করে বলেন, অনেক পরে তিনি শুনেছেন তার মামলার রায় হয়ে গেছে। পরে তিনি আদালতে যোগাযোগ করে রায়ের নকল উঠান। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের কারও কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ না করেই রহস্যজনকভাবে আসামিদের খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়।