মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

টাংগাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ঈদযাত্রায় ভোগাবে!!!

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

নানা জটিলতায় টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এতে আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহসড়কে ১৩ কিলোমিটার অংশে যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালকরা ও যাত্রীরা। তবে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। রাজধানীর সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম এই মহাসড়কটি। শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশ ৬৫ কিলোমিটার। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এ মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতিবছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করে। তাই এ সড়কে গাড়ির চাপ থাকে বেশি। এ কারণে প্রতিবছর ঈদ সামনে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্য করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এবারের ঈদে মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। মোতায়েন থাকবে এক হাজার পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক মহাসড়কে কাজ করবেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্প আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। কাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। বর্তমানে ফাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ চলমান। সেইসঙ্গে সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গার থেকে সেতু বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ চলছে। এলেঙ্গায় চলছে ফ্লাইওভারের কাজ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজও চলমান। ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে এসব স্থানে কাজ করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বাসচালক রুহুল আমীন বলেন, ‌‘এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এখানে রাস্তা চাপা (সংকীর্ণ) হওয়ার কারণে একসঙ্গে ৩-৪টি গাড়ি অক্রিতম করতে পারে না। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।’

আরেক বাসচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এলেঙ্গার পর থেকে সিঙ্গেল লেনে যানবাহন চলাচল করতে হয়। এবারও আশঙ্কা করা হচ্ছে মহাসড়কে যানজট হবে।’

বাসযাত্রী হযরত আলী বলেন, ‘ঈদ এলেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ফলে যানজট লেগে যায়। এছাড়া মহাসড়কের কাজের জন্যও যানজটের তৈরি হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ প্রশাসনকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে সার্বক্ষণিক টোল চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। এবার সেতুর দুই প্রান্তে ৯টি করে বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হবে। এরমধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে আলাদা বুথ থাকবে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যেসব জায়গায় সমস্যা হতে পারে, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। মহাসড়কে তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের পাঁচদিন আগে এবং পরেও সাতদিন পুলিশ কাজ করবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102