
আলকামা সিকদার:
সামনে আর মাত্র কদিন বাকি। দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। এরই মধ্যে টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের লৌহ কারিগর পল্লী। কর্ম চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে কারিগরদের মাঝে।
আগুনের তাপে লোহা পুড়ে আগুন রঙা হচ্ছে। সেই লোহাকে পাল্টা পাল্টি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রূপ দেয়া হচ্ছে দা,বটি,ছুরি, চাপাতিসহ নানা সরঞ্জামে। দিনের শুরু থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন মধুপুর উপজেলার লৌহ কারিগর কামারেরা।
বছরের বেশির ভাগ সময় অলস কাটালেও ঈদের এই মৌসুমে দম ফেলারও সময় থাকেনা কর্মকারদের। ছুরি,চাপাতি,বটিসহ মাংস কাটার নানা সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ভির জমাচ্ছেন নানান জন।
লোহা ও কয়লার দাম বাড়ার কারণে মজুরি একটু বৃদ্ধি নেয়ার অভিযোগও করছেন গ্রাহকেরা ।
অরণখোলা গ্রামের মো. আবু নাইম জানান, আগে যে চাপাতি ৯ শত থেকে ১ হাজার টাকায় বানানো যেতো,বর্তমানে তা বানাতে ১৫ শত থেকে ১৬ শত টাকার লাগছে। মজুরিও অন্য বছরের তুলনায় একটু বেশি নিচ্ছে।

আব্দুল কাদের বলেন, সান দেয়া, নতুন বানানো ও মেরামত করতে অন্যান্য বছর যে টাকা লাগতো এ বছর তার চেয়ে অনেক বেশি নিতেছে। আর লোহার দামও বেশি।
জলছত্র বাজারের নিখিল কর্মকার জানান, আমি গত ৪৫ থেকে ৫০ বছর ধরে এ কাজের সাথে জড়িত। দেড় টাকা বস্তা কয়লা কিনেও কাজ করেছি। আর সেই কয়লা বর্তামনে ৮৫০ টাকা বস্তা কিনে কাজ করছি।
নিপেন কর্মকার জানান,আগে লোহা এবং কয়লার দাম কম ছিলো তাই কম মজুরিতে কাজ করতাম। এ বছর কয়লা ও লোহার মূল্য বৃদ্ধির কারনে আমাদের মজুরি পোশায়না তাই আগের চাইতে একটু বেশি নিতে হচ্ছে। আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পেশার সাথে জড়িত।
আমার জীবনে লোহা ও কয়লার দাম এতো বাড়বে এটা চিন্তাও করি নাই কখনো। তাই সবকিছুর দাম একটু বেশির কারনেই মজুরিও বাড়াতে হয়েছে। তাছাড়া সবকিছু এখন রেডিমেট হওয়াতে গ্রাহকও আগের চাইতে কমে গেছে। সরকার যদি আমাদেরকে সহযোগিতা না করে তাহলে আমাদেকে হয়তো অন্য পেশাও বেছে নিতে হতে পারে।