সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ স্বপনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ৩রা মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। শনিবার দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ স্বপনের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় ২৮৬ জন সুবিধাভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম, তৃতীয় প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে নিজ এলাকায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্প গ্রহণ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম এবং ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইনবহির্ভূত। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। জানা যায়, গত ২৭শে আগস্ট ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, নিয়মিত সভা বা রেজুলেশন ছাড়াই প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ স্বপন সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ ও উন্নয়ন ফান্ড থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভিজিডির ২৮৬টি কার্ডের মধ্যে মাত্র ৬০টি ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও বাকি কার্ডগুলো তার ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে দেয়া হয়। এ ছাড়া, ভিজিএফ কার্ড বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে নিজের গ্রাম আগতেরিল্যা এলাকায় কাগজ-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং কৃষি প্রণোদনার বড় অংশ নাম-বেনামে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগও আনা হয়।