টাঙ্গাইলে ১৮ দিন বয়সের এক নবজাতক ছেলেকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টার মামলায় গর্ভধারিণী মাকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এই রায় দেন।
দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে আয়না বেগম। তিনি আগে থেকেই জেলহাজতে রয়েছেন। রায় ঘোষণা সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে বলেন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে জাহিরুল ইসলাম ২০১৭ সালে আয়না বেগমকে বিয়ে করেন। ২০২০ সালের ১২ আগস্ট তাদের একটি ছেলের জন্ম হয়। ছেলের নাম রাখা হয় রায়হান।
নবজাতক রায়হানকে নিয়ে আয়না বেগম অধিকাংশ সময় তার বাবার বাড়ি লাউহাটিতে থাকতেন। বিয়ের আগে থেকেই ওই গ্রামের ওহাব নামে এক যুবকের সাথে তার প্রেম ছিল। ওহাব মাঝে-মধ্যেই আয়না বেগমের স্বামী জাহিরুলকে হুমকি দিত।
২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল থেকে রায়হানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওইদিনই আয়না বেগমের বাড়ির পাশের খাল থেকে শিশু রায়হানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জাহিরুল ইসলাম ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় মামলা করেন।
পরে পুলিশ আয়না বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে আয়না বেগম নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। একই বছর ২৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।
বিচার শেষে তাকে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।