মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মধুপুরে পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের ৪জন নিহত কেন্দ্রীয় যুবদলের মুন্না-নয়ন পরিষদকে অভিনন্দন জানিয়ে মধুপুরে আনন্দ মিছিল টুংটাং শব্দে মুখর মধুপুরের কামার পল্লী, মজুরী বেশি নেয়ার অভিযোগ গ্রাহকের মধুপুরে গরমে বেরেছে তালের শাঁসের কদর মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মাণে বাঁধা সাধারণ সম্পাদকে হুমকি মধুপুরে অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাংগাইলের ১২টি উপজেলার ৮১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আগামীতে স্বাস্থ্য কার্ডের কথাও ভাবছে সরকার-তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনগণ ভালো থাকলে সরকার ভালো থাকবে মধুপুরে-আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মধুপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পানি বৃদ্ধির সাথে টাঙ্গাইলের ১০ গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪
  • ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে টাঙ্গাইলের সব নদনদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে জেলার তিন উপজেলার ১০ গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রমত্ত্বা যমুনার আগ্রাসী রূপে ওই সাতটি গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। জেলার ছোট-বড় বিভিন্ন নদনদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি ইউনিয়নের চরপৌলি গ্রামের অরক্ষিত ১৬২৫ মিটার এলাকা, কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভৈরববাড়ী ও গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর ও হাট আলীপুর গ্রাম, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ীসহ বেশকয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এলাকার ভাঙনকবলিতরা জানান, কয়েকদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। ক্রমাগত পানি বাড়ার কারণে যমুনা যৌবনা হয়ে উন্মত্তরূপ ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে বেশ কিছু এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনা আগ্রাসী হলে কারো কিছু করার থাকবে না। মুহূর্তেই বাড়িঘর-গাছপালাসহ কাঁচা বা পাকা স্থাপনা গ্রাস করে ফেলবে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলি গ্রামের মানুষ জানায়, যমুনার ভাঙনে ইতোমধ্যে চরপৌলি গ্রাম অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ দুইপাশে বাঁধের মাঝখানে খোলা ১৬২৫ মিটার এলাকার ৩৫টি পরিবারের বাড়িঘর ও স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে স্থানীয় ৩৫ পরিবারের সবাই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বাড়ি ঘর হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে কেউ অন্যের জমিতে ও বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন কবলিতরা সরকারি-বেসরকারি সাহায্য নয়, তারা যমুনার ওই অংশে বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানায়। অপরদিকে, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে নদীতীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরের ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল, তাও ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন পার করছে নদীতীরের শ’ শ’ পরিবার। ইতোমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনা আগ্রাসী রূপ ধারণ করলে সবকিছু তছনছ করে ফেলবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনার বামতীরে কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ী পাথরঘাট থেকে আলীপুর পর্যন্ত ব্লক দিয়ে বেরীবাঁধ নির্মাণ ও নিউ ধলেশ্বরীর নদীর অফটেক (মুখ) বাঁধাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, নাগরপুর উপজেলা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলির দক্ষিণ পর্যন্ত জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। মাঝখানে চরপৌলি গ্রামের ১৬২৫ মিটার অংশ অরক্ষিত রয়েছে। বাঁধ না থাকায় ওই অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদীতীরের ভাঙন আতঙ্কে থাকা মানুষরা জানায়, গত বর্ষা মৌসুমে ভাঙনরোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্নস্থানে নামে মাত্র নিম্নমানের জিওব্যাগ ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এবার সেগুলোও ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলার সুযোগ নেন। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলা হয় না। গত বর্ষায় নদী ভাঙনের শিকার মানুষজন জানায়, শুকনো মৌসুমে বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে ওঠা চর কেটে ট্রাকযোগে বিক্রি করে থাকে। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না বা করলেও কোন সুফল পাওয়া যায় না। তারা আরও জানায়, গত বছর বন্যায় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা গাইড বাঁধের জিওব্যাগ বালু ব্যবসায়ীদের আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধা-পাকা সড়ক, গাইড বাঁধ বসত-বাড়ি, মসজিদ-মন্দির, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। পাটিতাপাড়ার ওমেছা বেগম, সুফিয়া আক্তার ও কোরবান আলী জানান, যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। গত বছর বসতভিটা ভেঙে যেটুকু থাকার জায়গা ছিল। তাও এবার চোখের সামনে নদী গর্ভে বিলীনের পথে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, কিছুদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। ভাঙনরোধে উর্দ্ধতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হবে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যমুনার ভূঞাপুর অংশে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনও’র মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের জন্য একটি প্রকল্প উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় ইকোনোমিক জোনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরু করা হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হয়ে যাবে। এদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলি গ্রামের উত্তর এবং দক্ষিণের মাঝে ১৬২৫ মিটার অংশ অরক্ষিত রয়েছে। ওই স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামি শুকনো মৌসুমে বাঁধের কাজ ধরা হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102