বাসাইলে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার

বাসাইলে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে অপহরণের ২৭ দিন পর এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমন মিয়াকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে ঢাকার দক্ষিণখান কসাইবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ইমন মিয়া বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলী মিয়ার ছেলে। মামলার অপর আসামি তাঁর বাবা ইদ্রিস আলী মিয়া, মা নাজমা বেগম ও বড় বোন ছাবিনা আক্তার পলাতক রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া ছাত্রী বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় ইমন ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাসাইলের সাহাপাড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে ইমন তাঁর বাবা, মা ও বোনের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে একটি অজ্ঞাত গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

আরো পড়ুনঃ

বাসাইলে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যাক্ত করায় যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

ঘটনার পরপরই বিষয়টি বাসাইল থানা পুলিশকে জানায় ভুক্তভোগীর পরিবার।

অপহরণের ছয় দিন পর, ১০ আগস্ট ইমনকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো একজনের বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ ও র‍্যাব ছাত্রীকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

অবশেষে অপহরণের ২৭ দিন পর সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ কসাইবাড়ি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয় এবং মামলার প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও নারীদের উত্ত্যক্ত করা, বিভিন্ন এলাকায় মারামারি এবং মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে। এ সময় মামলার প্রধান আসামি ইমনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি জানান, অভিযুক্ত ইমনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।