টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নরমাল ডেলিভারির সময় দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে গালিগালাজ, মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া এবং বাড়িতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর নাম ফরিদা বেগম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর কয়েক মাস আগেও একই কেন্দ্রে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় এক সাংবাদিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে ভিডিও ধারণের সময় ফরিদা বেগম তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁর অসুস্থ মাকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রসবের সময় শিশুর হৃদ্স্পন্দন ছিল। এরপরও নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। স্বজনরা গর্ভবতী নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ওই স্বাস্থ্যকর্মী তাঁকে যেতে দেননি বলেও অভিযোগ তাঁদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ফরিদা বেগমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে কলটি কেটে দেন।
ঘটনার বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সহকারী আব্দুল আওয়াল বলেন, “সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া ও গালিগালাজ করা ঠিক হয়নি। তাঁর সঙ্গে নমনীয় আচরণ করা উচিত ছিল।”
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, “ভিডিও দেখে বুঝতে পেরেছি তাঁর আচরণ অশোভনীয় ছিল। বিষয়টি মোটেও ঠিক হয়নি। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।”
স্থানীয়দের দাবি, দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। একই সঙ্গে সাংবাদিককে হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগেরও যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

