হাত নেই বলে থেমে যায়নি পথ। পা দিয়েই লিখে চলেছেন জীবনের গল্প। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যকে জয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৭নং দিগড় ইউনিয়নের গারট্র উত্তর পাড়া খুশিপাড়া গ্রামের কিশোর তাওহীদ ইসলাম (১৯)। জন্ম থেকেই তাঁর দুটি হাত নেই। তবে পা দুটোকেই হাত বানিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ফজলুল হক ও রত্না খাতুনের সন্তান তাওহীদের শৈশব অন্যদের মতো ছিল না। সমবয়সীরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত, তখন তিনি পা দিয়ে অক্ষর লেখার অনুশীলন করতেন। দীর্ঘ সময় পায়ের আঙুলে কলম চেপে ধরে লিখতে গিয়ে ক্ষতও হয়েছে। তবুও থামেনি তাঁর পড়াশোনা।
অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৩৮ অর্জন করেছেন তাওহীদ। বর্তমানে তিনি সরকারি করটিয়া সা’দত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
তাওহীদ বলেন, “আমার দুটি হাত নেই। বেঁচে থাকার তাগিদে পা দিয়েই সব লিখি। আমার বেশি কিছু চাওয়া নেই। পড়াশোনা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি পেতে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।”
তাঁর বাবা ফজলুল হক বলেন, “জন্মের সময় ওর হাত না দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, হয়তো সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে। কিন্তু তাওহীদ আমাদের ভুল প্রমাণ করেছে। পা দিয়ে লিখে ভালো ফল করায় আমরা গর্বিত। আমার সামর্থ্য কমে গেছে, বয়সও হচ্ছে। ওকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়া হলে আমরা অন্তত শান্তিতে থাকতে পারতাম।”
মা রত্না খাতুন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ওর কষ্ট দেখেছি। পা দিয়ে লিখতে গিয়ে ব্যথায় পা ফুলে যেত, রাতে ঘুমাতে পারত না। কিন্তু তাওহীদ কারও দয়া চায় না। সে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। সরকারের কাছে আমার ছেলেটার জন্য একটু সহযোগিতা চাই।”
এলাকাবাসীরাও তাওহীদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে লিখে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া তাওহীদের সংগ্রাম সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার। একটি সরকারি চাকরির সুযোগ পেলে তাঁর জীবন যেমন বদলে যাবে, তেমনি তাঁর মতো অসংখ্য মানুষের জন্য তৈরি হবে নতুন আশার দৃষ্টান্ত।
তাওহীদের গল্প যেন একটাই বার্তা দেয়—শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের স্বপ্নকে থামাতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

