আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ফেরও তীব্র যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ ধীরগতিতে চলায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালক ও যাত্রীরা।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২৪ জেলার মানুষ রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াত করেন। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদযাত্রায় চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দরপত্রের মাধ্যমে মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজ পায় আবদুল মোনেম লিমিটেড। ২০২২ সালের মার্চে কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হয়নি। পরে মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো পুরোদমে কাজ চলছে। কোথাও সার্ভিস লেন অসম্পূর্ণ, কোথাও একপাশে চলাচল সীমিত। ফলে যানবাহনের চাপ বাড়লেই দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন চালকদের অভিযোগ, ঈদ এলেই মহাসড়কে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু হয়।
শ্যামলী পরিবহনের চালক শওকত হোসেন বলেন, মহাসড়কে পুলিশের কঠোর তদারকি প্রয়োজন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও যানজটের শঙ্কা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গগামী বাসচালক রাহাত খান বলেন, ঈদের সময় যানজট এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে। এলেঙ্গার পর থেকে এখনো অনেক জায়গায় সরু পথ রয়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।
আরেক চালক মো. আজগর আলী বলেন, গরুবাহী ট্রাক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অসতর্ক চালনার কারণেও যানজট সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের পাশাপাশি চালকদেরও সচেতন হতে হবে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যমুনা সেতুতে টোল আদায়ের সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিলে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এছাড়া বিকল যানবাহন, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত যানচাপও যানজটের অন্যতম কারণ।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদে সেতুর দুই প্রান্তে ৯টি করে টোল বুথ চালু থাকবে। মোটরসাইকেলের জন্য থাকবে আলাদা বুথ। এছাড়া বিকল যানবাহন দ্রুত সরাতে দুই প্রান্তে থাকবে পৃথক রেকার ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঈদযাত্রায় যান চলাচলের সুবিধার্থে মহাসড়কের দুই পাশই চার লেনে উন্মুক্ত রাখা হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, যানজট নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশকে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রায় আট শতাধিক পুলিশ সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাতটি রেকার, মোটরসাইকেল টিম ও বিশেষ টহল ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যমুনা সেতুতেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখার চেষ্টা করা হবে।